ঢাকার লিবিয়া দূতাবাস শ্রমিক ভিসা দিচ্ছে না

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লিবিয়াগামীদের ভিসা দেয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার লিবিয়ান দূতাবাস। কী কারণে হঠাৎ এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা অবশ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা ধারণা করতে পারছেন না। লিবিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই দেশটিতে বৈধভাবে বেশ কিছু কর্মী পাড়ি জমান। এখন তারা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করছেন। তাদের দেখে অনেক শ্রমিক দালালদের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সিতে যোগাযোগ করে পাসপোর্ট এবং জামানত হিসেবে নগদ টাকা জমা দিয়ে বিপদের মধ্যে রয়েছেন। এখন ওই বিদেশগামী শ্রমিকদের সময় কাটছে অনেকটা অনিশ্চয়তায়।
সম্প্রতি ঢাকার লিবিয়ান দূতাবাস এক নোটিশে জানিয়েছে, লিবিয়ান দূতাবাস ঢাকা ঘোষণা করছে, লিবিয়ায় প্রবেশ ভিসা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। দূতাবাসের এমন নোটিশের পর থেকেই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সাথে সম্পৃক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কারণ ইতোমধ্যে তারা কর্মী পাঠানোর জন্য লিবিয়া থেকে বেশ কিছু চাহিদাপত্র নিয়ে এসেছেন।
গতকাল ঢাকার কাকরাইলের একজন জনশক্তি প্রেরণকারী ব্যবসায়ী নিজের নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢাকার লিবিয়া দূতাবাস গত ডিসেম্বর মাস থেকেই ভিসা দিচ্ছে না। যা এখনো বহাল রয়েছে। আমরা দূতাবাসে খোঁজ নিতে গেলে ভিসা সেকশনের লোকজন একেক সময় একেক কথা বলছেন। আমরা ভিসা জমা দিতে চাইলে তারা জমা না নিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। লিবিয়া থেকে আমাদের কাছে যে টেলেক্স এসেছে সেগুলোর মেয়াদও চলে যাচ্ছে। এখন কবে আবার ভিসার কার্যক্রম শুরু হবে তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছি। শ্রমিকরা আমাদের কাছে খোঁজ নেয়, ভিসা চালু হয়েছে কি না। আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না। এই সুযোগে অবৈধভাবে দেশটিতে দুবাই হয়ে নানাভাবে যাওয়া শুরু হয়েছে বলে শুনতে পাচ্ছি।
গতকাল নয়াপল্টনের অপর একজন জনশক্তি ব্যবসায়ী নয়া দিগন্তকে ঢাকার লিবিয়ান দূতাবাস থেকে ভিসা দেয়া বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি যতটুকু জানি শুধুমাত্র ওয়ার্কিং ভিসা দেয়ার কার্যক্রম তারা বন্ধ রেখেছে। ভিজিট, ট্যুরিস্টসহ অন্যান্য পেশার ভিসা কিন্তু তারা দিচ্ছে। কী কারণে ওয়ার্কিং ভিসা দিচ্ছে না জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, তারা তাদের আইটি সিস্টেমে পরিবর্তন আনছেন। এমনটি বলছেন। কিন্তু দূতাবাসের নোটিশে ভিসা বন্ধ থাকার কারণ উল্লেখ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিবিয়ায় নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্য দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে। এরপর এজেন্সির মালিকরা দেশটি থেকে কর্মীদের নামে চাহিদাপত্র সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর নিয়ম মোতাবেক ভিসা ফি দিয়ে দূতাবাস থেকে ওই সব কর্মীর নামে ভিসা ইস্যু করা হয়। এবং কর্মীরা যথারীতি দেশটিতে গিয়ে কাজও শুরু করেন। এর মধ্যে শোনা গিয়েছিল, লিবিয়ার শ্রমবাজার ঢাকার ১৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক যাবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত ১৫ এজেন্সির বাইরের কিছু এজেন্সি তাদের চাহিদা মোতাবেক ভিসা স্ট্যাম্পিং করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে জনশক্তি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে। এরপর কী কারণে হঠাৎ ঢাকার লিবিয়ান দূতাবাস ভিসা স্ট্যাম্পিং দিচ্ছে না তা তারাও বলতে পারছেন না। তবে তারা যতটুকু জেনেছেন সেটি হচ্ছে সিস্টেমে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। তবে সহসাই ভিসা স্ট্যাম্পিং জটিলতা কেটে যাবে বলে লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
এ দিকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মহিলাসহ মোট এক লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জন বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে লিবিয়াতে গেছেন মাত্র ৩ জন। অপর দিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে তুলনামূলক শ্রমিক যাওয়ার হার কমলেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার হার অনেক বেড়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটিতে গিয়েছে ২৪ হাজার ৯৯৪ জন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: শহীদুল আলমের কাছে লিবিয়ায় কর্মী যাওয়ার ভিসা ঢাকার লিবিয়ান দূতাবাস থেকে বন্ধ থাকার কারণ কী তা জানতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি টেলিফোন ধরেননি, যার কারণে সরকারি বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

image_pdfimage_print