Stealing electric meter, leaving phone number to get back rogue

সাটুরিয়ায় মিলকারখানার বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। এক শ্রেণির প্রশিক্ষিত চোর থ্রিফেজ মিটার চুরি করে গ্রাহকদের প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত এক মাসে প্রায় শতাধিক বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

সাটুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিলকারখানা ও কৃষকের আবাদি জমির গভীর নলকূপের থ্রিফেজের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করছে একদল প্রশিক্ষিত চোর। তারা মিটার চুরি করে মিটারের বোর্ডে মোবাইল নম্বর দিয়ে আসছে। ঐ মোবাইল নম্বরে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিলে মিটার পাওয়া যাবে বলে জানিয়ে আসে। এ ঘটনায় চলতি মাসে থানায় চুরির ১৫টি মামলা করা হয়েছে। এর পরও দুর্বৃত্তরা থেমে নেই। প্রতিরাতেই তারা কারো না কারো মিটার চুরি করছে। সাটুরিয়া থানার সীমান্তবর্তী নান্দেশরী শহীদ টিম্বার স’মিলের থ্রি ফেজের মিটার চুরি হয়। দুর্বৃত্তরা যাওয়ার সময় মোবাইল নম্বর (০১৯৮৭২৩০৬৪৮ নম্বর) রেখে যায়। ঐ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দিতে বলে। এভাবে প্রতারণা করে সাটুরিয়া থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। তবে শহীদ টিম্বার স’মিলে সিসি ক্যামেরায় চোরের চেহারা ধরা পড়ে।

এদিকে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার দেলুয়া এলাকার আ. মালেকের ছেলে আক্তার হোসেন, একই উপজেলার কাউন্নারার আফসার উদ্দিনের ছেলে আতোয়ার রহমান, পুনাইলের আ. হাইয়ের ছেলে আলতাফ হোসেন, দেলুয়া এলাকার মেছেরের ছেলে ঠান্ডু, হরগজ মোড় এলাকার বিল্লাল রাইস মিলের মিটারসহ প্রত্যেকের মিটার চুরি হয়। এ ছাড়া কান্দাপাড়া গণকল্যাণ ট্রাস্ট পোলট্রি ফার্মের মিটার, জান্না গ্রামের নছু মৃধার ছেলে জলিল মৃধার মিটার, দিঘুলিয়া এলাকার বাছেদের ছেলে রেজাউল করিমের মিটার চুরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, চুরি হওয়া মিটার না নিয়ে নতুন করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মিটার নিলে সে মিটারও পরের দিন দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। আর চোরের দেওয়া নম্বরে টাকা দিলে চুরি হওয়া মিটার আশপাশে খড়ের পালা ও ধান খেতে পাওয়া যায়। আর চুরি হয় না।

সাটুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মিলকারখানার থ্রি ফেজ মিটার চুরির বিষয়ে মিলমালিকসহ আমরা উদ্বিগ্ন। প্রতিটি চুরির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুল আলম বলেন, চোরের রেখে যাওয়া মোবাইল ফোন নম্বর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান চলছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিটার সংরক্ষণে সতর্ক দৃষ্টিসহ আরো তত্পর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।