Delhi polling, office-school closure announced in Delhi

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আগামী সাতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সব সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এছাড়া আগামী তিনদিন বন্ধ থাকবে সব নির্মাণকাজও। গতকাল শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘোষণায় বলা হয়, আগামী সোমবার থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহের জন্য দিল্লির সব স্কুল বন্ধ থাকবে। তবে এই সময় শিক্ষার্থীরা স্বশরীরে স্কুলে হাজির হওয়ার পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন। বায়ু দূষণ মোকাবিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লিতে নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার দিল্লিতে লকডাউনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনাটি সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

ভারতীয়  বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিষাক্ত বাতাসে দিল্লির আকাশ পুরোপুরি ভারী হয়ে উঠেছে। দিনের বেলাতেও দিল্লিতে অন্ধকার নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের বিষাক্ত বাতাস থেকে বাঁচাতে দিল্লির সরকার স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লির বায়ুদূষণ রোধে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জরুরি প্রক্রিয়া দরকার বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেজরিওয়াল সরকার চার-স্তরের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য স্কুলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক উপস্থিতি বন্ধ থাকবে; যাতে শিশুদের দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে না হয়। তিনি বলেন, সরকারি সব অফিস আগামী এক সপ্তাহের জন্য শতভাগ কাজ বাসায় থেকে করবে। বেসরকারি অফিসগুলোকে যতটা সম্ভব বাসা থেকে কাজের বিকল্পে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।

দিল্লি ও দিল্লির উপকণ্ঠে গুরুগাঁও, নয়ডা, গাজিয়াবাদসহ দিল্লি এবং এর আশপাশের অঞ্চলে গত সাত দিনের বেশি সময় ধরে মারাত্মক দূষিত বায়ুর চাদরে ঢেকে গেছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে দীপাবলি উদযাপনের পর বায়ু দূষণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীপাবলির সময় হাজার হাজার বাজি ফুটানো হয়। এর ফলে এসব অঞ্চলের বায়ুর মান ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যায়।

দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বলছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিল্লিতে বায়ুর মান সূচক (একিউআই) ৪২৭ এ পৌঁছেছে। একিউআইয়ের সূচক অনুযায়ী, বায়ুর মান চারশোর ওপরে চলে গেলে সেটিকে ‘গুরুতর’ অথবা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে মনে করা হয়।