The number of Eid dramas is decreasing due to artistic crisis

ঈদ উৎসবে ছোট পর্দার দর্শকের কাছে অন্যতম আকর্ষণ টিভি নাটক ও টেলিফিল্ম। ১৬টির মতো অনুষ্ঠাননির্ভর টিভি চ্যানেলের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় প্রায় ৪০০ নাটক প্রচারিত হয়। তবে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় সব চ্যানেল মিলিয়ে নাটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। কারণ হিসেবে টেলিভিশন চ্যানেলের কর্মকর্তা ও নাটক প্রযোজকেরা জানান, বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ কম করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আজহায় আফরান নিশো, অপূর্ব, তাহসান, তৌসিফ, মেহজাবীন, তানজিন তিশা, তাসনিয়া ফারিণদের কেউ দেরিতে ঈদনাটকের শুটিং শুরু করেছেন, কেউ ব্যস্ত ওটিটির কাজ নিয়ে, কেউ আবার ছিলেন দেশের বাইরে। শুটিং না করার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবার। এতে কোনো কোনো চ্যানেলে নাটকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। কোনো চ্যানেল আবার নতুনদের নিয়েই নাটকের সংখ্যা পূর্ণ করার চেষ্টা করছে।
চলতি বছর ঈদুল ফিতরে দীপ্ত টিভিতে ৪২টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। এবার সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১–এ। কারণ দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদামতো শিল্পীর শিডিউল পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ ছিলেন দেশের বাইরে, কেউ কাজই কম করছেন।এ প্রসঙ্গে দীপ্ত টিভির প্রযোজক কিশোর খন্দকার বলেন, ‘নিশো তো এবার কাজই করছেন না। ওটিটির কনটেন্টের জন্য সময় দিয়েছেন। তাহসান ভাইয়ের শিডিউলও নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, ফেরার পর সেভাবে কাজ করতে পারেননি। আবারও বিদেশে গেছেন। তাঁকে নিয়ে কাজ করা যায়নি।’
যেসব শিল্পীর নাটক দর্শকেরা বেশি দেখেন, তাঁদের নিয়ে আগ্রহ থাকে বিজ্ঞাপনদাতাদের। তাঁরা ঈদ অনুষ্ঠানমালায় অন্তত প্রথম তিন দিনের নাটকে দর্শক–চাহিদার শীর্ষে থাকা তারকাদের অনুষ্ঠানমালার প্যাকেজে দেখতে চান। এবার ঈদে এমন শিল্পীর নাটকের কিছুটা সংকট আছে, জানালেন বাংলাভিশনের অনুষ্ঠানপ্রধান তারেক আকন্দ। বাংলাভিশনে গত ঈদে ৪২টি নাটক প্রচারিত হয়েছিল। এবার সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫–৪০টিতে।
তারেক আকন্দ বলেন, বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতা ঈদের নাটকের কাজ দেরিতে শুরু করেছেন। এ কারণে কিছু চ্যানেলে হয়তো কম নাটক প্রচারিত হতে পারে। কিন্তু বাংলাভিশনসহ অনুষ্ঠাননির্ভর বড় চ্যানেলগুলোর খুব একটা সমস্যা হয়নি। ঈদুল ফিতরে যেমন ছিল, এবারও নাটকের সংখ্যা একই বা কাছাকাছি থাকছে। হয়তো নিশো, অপূর্ব, তাহসান, মেহজাবীন, তৌসিফ, তানজিন তিশাদের নাটক কম থাকতে পারে।
তবে তারেক আকন্দ জানান, নাটকের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছে কোনো কোনো চ্যানেল।

image_pdfimage_print