Floods and landslides in India and Nepal are reported to have killed 200

অব্যাহত নিম্নচাপের জেরে একটানা বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত হিমালয়ের পাদদেশ। নেপাল ও ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তার সঙ্গে ভূমিধস। বন্যা ও ধসের ফলে এই দুটি দেশে মৃতের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২০০ ছাড়িয়েছে।

নদীর পানিও বইছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে।এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। দেশ দুটিতে প্রতিদিনই নতুন মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের বন্যা ও ভূমিধসে সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৫৫ জন। আর কেরালার রাজ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। দার্জিলিংয়ে কাদা, পাথর ও পানির তোড়ে প্রায় ৪০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছে।

নেপালে কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে তাদের বাড়িসহ মাটিচাপা পড়েছে এবং দুই তরুণী ভেসে গেছে। পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। বন উজাড়, ক্ষয়ক্ষতি ও অত্যধিক উন্নয়নের কারণে জলবায়ু পরিস্থিতির বিপর্যয় আরও বেড়ে গেছে। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা দ্বিজেন ভট্টরাই বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদেরকে মোতায়েন করা হয়েছে।ভারত ও নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৫০

গতকাল বুধবার নেপালে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নতুন করে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং বলেন, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চথারে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম নেপালের ইলমে ১৩ জন ও দোতিতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে আরও ২২ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২৬ জন।

ধবার ভারতের উত্তরাখন্ডের রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালে নৈনিতালে ভারী বর্ষণের পর বেশ কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে। এদিন সাতটি আলাদা ঘটনায় অঞ্চলটিতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা প্রদীপ জৈন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিধসের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় আলমোরা জেলায় অপর একটি ভূমিধসের ঘটনায় একটি বাড়ির পাঁচ বাসিন্দা প্রাণ হারায়।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার উত্তরাখন্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরে সেসব এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

image_pdfimage_print