হলফনামা অনুযায়ী নিপুণ রায়ের নিজের নামে রয়েছে ৫০২ ভরি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না। তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামেও রয়েছে একই ধরনের আরও ১০০ ভরি গয়না।
নিপুণ রায়ের বিবরণীতে থাকা ৫০২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছে। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিপুণ রায় বলেন, আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি—এই দুই পরিবার ভগবানের দান। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে—এগুলো তো ভগবানের দান। সেই দিক থেকে আমি রাজকপালী।
নিপুণ রায় চৌধুরী জানান, বিয়ের আগে, বিয়ের সময় ও পরবর্তীতে যে উপহারসামগ্রী পিতৃকূল, মাতৃকূল, শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিজনের কাছ থেকে পেয়েছেন সেটি হলফনামায় তিনি ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো ঘোষণা নয়। ২০২৪ সালের জুনে যে ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেছিলাম সেখানেও ঘোষণা করা আছে। অন্যান্য ধাতুসহ আমি দেড় লাখ টাকা দরে হিসাব করে এর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছি। আমি এটা সততার সঙ্গে ঘোষণা করেছি।
নিপুণ রায় আরও বলেন, আমার একটি ফ্ল্যাট আছে, সেটি আমি ঘোষণা করেছি। আমার দুটি গাড়ি আছে, সেটি আমি ঘোষণা করেছি। আমি যখন ঢাকা ব্যাংকে চাকরি করতাম, তখন আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমার প্রিমিও গাড়িটি কিনেছিলাম। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ লোন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়েছি। পরে আরেকটি গাড়ি কিনেছি। আমার কার লোন আছে ৫০ লাখ। এ ছাড়া আমার পারসোনাল লোন আছে ২০ লাখ টাকা। এই টাকা সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। আমি সেটাও ঘোষণা করেছি।
নিপুণ রায় চৌধুরী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ।
হলফনামায় নিপুণ রায় নিজের পেশা আইনজীবী উল্লেখ করেছেন। বছরে তার আয় ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় করেন। তার স্বামী অমিতাভ রায়ের পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিপুণ রায়ের নামে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার নামে থাকা দুটি গাড়ির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার নিজের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তার স্বামীর নামে অস্থাবর সম্পদের মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছেন নিপুণ রায়। ফ্ল্যাটটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হলেও এর অবস্থান হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।







