ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলা চালানো হতে পারে বলে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারে। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘বিচ্ছিন্ন’ হামলা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প চলমান যুদ্ধকে তুলনামূলকভাবে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেখানে প্রায় এক লাখ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, সেখানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন।
পিকঅ্যাক্স পর্বত ইরানে স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-এ কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত। এটি দেশটির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত। পাহাড়টির ভেতরে রয়েছে গভীর ভূগর্ভস্থ দুটি টানেল কমপ্লেক্স।
প্রায় ২০২০ সাল থেকে ওই এলাকায় খননকাজ শুরু হয়। পরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের স্তরের কয়েকশ মিটার নিচে বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান সেখানে গোপন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র তৈরির চেষ্টা করছিল। তাদের মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি ‘কৌশলগত বিকল্প’ হিসেবে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ইরান অতীতে দাবি করেছে, পাহাড়ের ভেতরের এই স্থাপনা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য নয়; বরং সেখানে সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেও পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করবে এবং ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এর গভীরতা। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাহাড়ের অনেক গভীরে নির্মিত ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো এতটাই সুরক্ষিত যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বাংকার-বাস্টার’ বোমাও সেগুলোতে কার্যকরভাবে আঘাত হানতে নাও পারে।
ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে এমন হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।





