এশিয়া-প্যাসিফিকে ন্যাটোর ‘৩.০’ বিস্তৃতি নিয়ে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি

এশিয়া-প্যাসিফিক (এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয়) অঞ্চলে ইউরোপের নেতৃত্বাধীন উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা ও ‘ন্যাটো ৩.০’ (NATO 3.0) সংস্করণ বিস্তৃতির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। বেইজিংয়ের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে ন্যাটোর এই ধরনের সম্প্রসারণবাদী নীতি বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার (multipolar world order) সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং এটি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

 

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

‘ন্যাটো ৩.০’ এবং চীনের উদ্বেগ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘ন্যাটো ৩.০’ মূলত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের প্রথাগত সীমানা পেরিয়ে ন্যাটোর কৌশলগত এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে জোটটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের (যাদের যৌথভাবে IP4 বলা হয়) সাথে সাইবার নিরাপত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে ন্যাটো।

 

চীনা বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো এটিকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাধারণ উদ্যোগ হিসেবে দাবি করলেও, মূলত এটি বেইজিংকে দীর্ঘমেয়াদে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার একটি ভূ-রাজনৈতিক চাল। এই সামরিক জোটের এশীয়মুখী অভিযাত্রা এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করবে এবং নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

 

বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার অন্তরায়
চীনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর এই অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে নাক গলানো শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এখানে জড়িয়ে থাকায়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও বেশি জটিল হয়ে উঠবে। বেইজিং মনে করে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো বহিরাগত সামরিক শক্তির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শান্তিকে ব্যাহত করবে।

image_pdfimage_print